মরার উপর খাঁড়ার ঘা


রাতের বেলা অন্ধকারে চোর ঢুকে যায় ঘরে,
আমি কাঁপতে থাকি ডরে, আমার মন যে কেমন করে!

চোরেরা হাঁটে, জিনিস ঘাটে,
ফ্রিজ খোলে, তোষক তোলে,
হিসহিসিয়ে-ফিসফিসিয়ে, ছাদে গেল, নিচে এলো,
অস্ত্র হাতে বারান্দাতে, আমি ভয়ে আত্মহারা!
আমার তো এখন নট নড়ন-চড়ন,
চোর এসেছে, চোর এসেছে, এখন আমার জীবন-মরণ!
মরার মতোন শুয়ে থাকি, মুখেতে নেই শব্দ,
চোরের ভয়ে জব্দ আমি, এক্কেবারেই জব্দ!
চোর পালালে বুদ্ধি বাড়ে, চোরেরা যখন হাওয়া,
আমি তখন বীরের মতোন দিলাম একটা ধাওয়া!
এমনি করে যায় কখনো চোরের নাগাল পাওয়া?

চোর নিয়ে কী কী, দেখে সবই শিখি,
ঘরে ফিরে ঠান্ডা মাথায় সেই তালিকা লিখি।
ফ্রিজে ছিল চমচম, সেটা দেখি কমকম!
পাশের ঘরের ক্যামেরাটা, রান্না ঘরের চিনি-আটা,
সাতটা জামা, আটটা জুতা, সেলাই-মেশিন, রঙিন সুতা,
আরও নিয়েছে বিশ ইঞ্চি দামি কালার টিভি,
আরও নিয়েছে ডিকশনারী, চোরের সাথে আর কি পারি?
খবর শুনে সকাল বেলা দৌঁড়ে এলেন ডিবি।
 
ডিবি মানে ডিটেক্টিভ, তদন্ত হোক শুরু!
চোর পাকড়াও করতে এলেন গোয়েন্দাদের গুরু।
ঘরে ঢুকেই মোটিভ খোঁজেন, কেমনে হলো চুরি,
চোরের আগমনের সময় রাত দুইটা কুড়ি।

চোরেরা কেমন ছিল, সঙ্গে কী কী নিল,
গায়ের রঙ কি কালো, কীভাবে পালালো,
লম্বা নাকি বেঁটে, কীভাবে যায় হেঁটে,
কেউ কি খালি পায়ে, তাকায় ডানে-বাঁয়ে,
টর্চ ছিল কার হাতে, কে গিয়েছে ছাদে,
ক্যামনে করে চোরেরা আসে, ক্যামনে ঢোকে তারা,
গোয়েন্দাদের প্রশ্ন শুনে হই যে দিশেহারা!

বোঝায় তারা, চোরকে ধরা সহজ বিষয় নয়,
চোরের চেয়ে গোয়েন্দাদের পাচ্ছি এখন ভয়!
পাইনা ফেরত চুরির জিনিস, দামি কালার টিভি,
আসসালামু আলাইকুম, ওহে আমার ডিবি!

Comments