রাজার কৌশল
রাজা মারা গেছেন। তার উত্তরাধিকারী হওয়ার মতো কোনও বংশধর জীবিত নেই। দেশের লোকজন ধরেকয়ে একজন অভিজ্ঞ ব্যক্তিকে জোর করে রাজা নির্বাচিত করলো। তিনি আগে থেকেই বুদ্ধিমান আর আমানতদার হিশেবে পরিচিত আর বরিত ছিলেন।
আগের রাজার কাছে ভয়ে কেউ অভিযোগ নিয়ে বড় একটা আসতো না। তাদের এতদিনকার পুঞ্জীভূত অবদমিত অভিযোগে পাহাড় উগড়ে দিতে শুরু করলো। এর এই সমস্যা। তার ওই বিপদ। ছোটবড় কেউ বাকী নেই।
নতুন রাজা দেখলেন প্লাবনের মতো অভিযোগ বিচার তার দরবারে আসতে শুরু করেছে। তিনি বুদ্ধি করে একটা ঘোষণা দিলেনঃ
“যারা আমার কাছে অভিযোগ করতে চায়, তাদেকে লিখিতভাবে সেটা করতে হবে। প্রথম দিনে অভিযোগপত্র নির্দিষ্ট এক বাক্সে ফেলে যেতে হবে, পরদিন এসে সমাধান নিয়ে যেতে হবে।”
প্রথম ঘণ্টা পার না হতেই অভিযোগের বাক্স টইটম্বুর হয়ে গেলো। আজকের মতো অভিযোগ গ্রহণ বন্ধ। আগামী কাল সমাধান।
একজন একজন করে দরবারে আসতে বলা হলো। প্রথমজন এলোঃ
- তোমার অভিযোগপত্র বাক্স থেকে খুঁজে বের করো!
- জাহাপনা! এত কাগজের ভীড়ে আমারটা আলাদা করে বের করা মুশকিল! ভেতরটা না পড়ে দেখলে বোঝা যাবে না!
- ঠিক আছে তাই করো!
লোকটা খুঁজতে শুরু করলো। একেকটা অভিযোগপত্র খুলে পড়ে আর তার চেহারার ভাব বদলে যেতে থাকে। কিছুক্ষণ খোঁজাখুঁজি করে ক্ষ্যান্ত দিয়ে লোকটা বললোঃ
- রাজামশায়! আমার আর কোনও অভিযোগ নেই!
- কেন? (!)
- এতক্ষণ ধরে অন্যের অভিযোগ পড়তে গিয়ে দেখি, তাদের তুলনায় আমার সমস্যাটা কিছুই নয়। আল্লাহ আমাকে অনেক সুখে রেখেছেন!
এভাবে আরও কয়েকজনকে সুযোগ দেয়া হলো। সবারই একই কথা। এবার রাজামশায় ব্যালকনিতে গিয়ে দাঁড়ালেন। জাতির উদ্দেশ্যে হাত নেড়ে কয়েকটা কথা বললেনঃ
ক) আল্লাহ তা‘আলা আমাদেরকে কষ্টে ফেলেন, সুখী করার জন্যে!
খ) আল্লাহ আমাদের থেকে কিছু একটা ছিনিয়ে নেন, বিনিময়ে আরও ভাল কিছু দেয়ার জন্যে
গ) আল্লাহ আমাদেরকে কাঁদান, ভাল করে হাসানোর জন্যে।
ঘ) আল্লাহ আমাদেরকে সাময়িক কোনও সুবিধা থেকে বঞ্চিত করেন, স্থায়ী বড় কোনও সুবিধা দেয়ার জন্যে।
ঙ) আল্লাহ আমাদেরকে ভালোবাসেন বলেই বিপদ দিয়ে তার প্রতি আমাদের ভালোবাসাটা যাচাই করে দেখেন। আমি পরীক্ষায় টিকে থাকতে পারলে, ফলশ্রুতিতে অনন্ত সুখ!
সূত্রঃ আতিক উল্লাহ
Comments
Post a Comment