রমজানের বিধি-বিধান

হে ঈমানদারগন! তোমাদের উপর রোযা ফরজ করা হইয়াছে, যেমনিভাবে তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর ফরয করা হইয়াছিল, যাতে করে তোমরা মুত্তাক্বী হইতে পারেতোমাদের মধ্যে যে কেহ এই মাস পাইবে, সে যেন অবশ্যই রোযা রাখে” -আল-কোরআন

রমযানের যীলত
আল্লাহ্ তা'আলা বলেন, “রোযা একমাত্র আমার জন্য, আমিই তার প্রতিদান দিবো।”
রাসূলুল্লাহি (তাঁর উপর আল্লাহ্‌র শান্তি বর্ষিত হোক) বলিয়াছেন, রমযান মাসের একটি নফল ইবাদাত অন্য মাসের ফরজ ইবাদাতের সমানএবং রমযান মাসের একটি ফরজ ইবাদাত অন্য মাসের সত্তরটি ফরজ ইবাদাত এর সমান।” -আল-হাদীস


সাহ্‌রী
রোযা রাখার জন্য সাহ্‌রী খাওয়া সুন্নাত। হাদীস শরীফে সাহ্‌রী খেতে উৎসাহিত করা হয়েছে। পেটভরে খাওয়া জরুরী নয়। সুবহে সাদিকের পূর্বে রাতের শেষ ভাগে সাহ্‌রী খাওয়া মুস্তাহাব। সাহরীর সময় শেষ হয়ে যাওয়ার পর কিছু খেলে সেদিনের রোযা ক্বাযা করতে হবে এবং সারাদিন রোযাদার ব্যক্তির ন্যায় পানাহার বন্ধ রাখতে হবে।

রোযার নিয়্যত
রোযার নিয়্যত করা ফরজ। মৌন সংকল্পতাকে নিয়্যত বলে বিধায় শুধু মনে মনে “আমি আগামীকাল রোযা রাখার নিয়্যত করলাম”, বললেই রোযা হয়ে যাবে

ইফতার
সূর্যাস্তের পর ইফতারে বিলম্ব করা অনুচিত। তবে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকলে সাবধানতার জন্য কিছু বিলম্ব করা উত্তম। ইফতারের পূর্বে নিম্নোক্ত দুয়া পড়ে নিবে, “হে আল্লাহ! আমি আপনার জন্য রোযা রেখেছি এবং আপনারই প্রদত্ত রিযিক দ্বারা ইফতার করছি

তারাবীহ্‌
রাসূলুল্লাহি (তাঁর উপর আল্লাহ্‌র শান্তি বর্ষিত হোক) বলিয়াছেন, আল্লাহ্ তোমাদের উপর রমযানের রোযা ফরজ করিয়াছেন। আমি তোমাদের উপর তারাবীহ্‌কে সুন্নাত করিয়াছি।
আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের মতানুসারে, তারাবীহ্‌ এর নামায ২০ (বিশ) রাকাত। ৮ (আট) রাকাত, ১০ (দশ) রাকাত, এমন কোন নিয়ম নেই। তারাবীহ্‌ এর নামাযে জামাতের সহিত কমপক্ষে একবার কোরআন শরীফ খতম করা সুন্নাত, বেশী করলে অধিক উত্তম


'তিকাফ
রমযানের শেষ ১০ (দশ) দিন জামে মসজিদে 'তিকাফ করা সুন্নাতে মুয়াক্কাদায়ে কেফায়া অর্থাৎ প্রত্যেক জামে মসজিদে অন্তত একজন হলেও 'তিকাফ করা, অন্যথায় সমস্ত মহল্লাবাসীর সুন্নাতে মুয়াক্কাদা ছেড়ে দেওয়ায় কবিরা গুনাহ হইবে।

যাকাত
নেছাব পরিমাণ [৭.৫ (সাড়ে সাত) তোলা স্বর্ণ, ৫২.৫ (সাড়ে বায়ান্ন) তোলা রৌপ্য অথবা তার সমপরিমাণ সম্পদের মালিক হওয়া] মালের অধিকারী প্রাপ্তবয়স্ক জ্ঞানসম্পন্ন প্রত্যেক মুসলমানের উপর যাকাত প্রদান করা ওয়াজীব।


সাদকাতুল ফিতর
বিবরণঃ নেছাব পরিমাণ মালের মালিক প্রত্যেক মুসলমানের উপর সাদকাতুল ফিতর প্রদান করা ওয়াজীব। তবে নেছাব পরিমাণ মাল তার নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিষ যেমন অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, যানবাহন, ইত্যাদি থেকে বেশি হইতে হবে। পিতা তার অপ্রাপ্তবয়ষ্ক সন্তানের সাদকাতুল ফিতর প্রদান করিবে। প্রাপ্তবয়ষ্ক সন্তান তার নিজের সাদকাতুন ফিতরের জন্য দায়ী থাকিবে। স্বামী তার স্ত্রীর সাদকাতুল ফিতর প্রদানের জন্য দায়ী থাকিবে না। স্ত্রী যদি নেছাব পরিমাণ মালের মালিক হয়, তবে সে সাদকাতুল ফিতর প্রদান করিবে।
পরিমাণঃ পৌনে দুই সের গম বা আটা অথবা তার সমপরিমাণ মূল্য বর্তমান বাজার দর হিসেবে দিতে হবে। 
আদায়ের সময়ঃ ঈদুল ফিতর (রোযার ঈদ) এর দিন ঈদগাহের দিকে রওয়ানা হবার পূর্বেই আদায় করা মুস্তাহাব। তবে পরে আদায় করিলেও আদায় হয়ে যাবে। 

যাকাত ও ফিতরা যাদেরকে দিতে হবে

সাত শ্রেণীর লোকদেরকে যাকাত এবং সাদাকাতুল ফিতর প্রদানের বৈধতা দিয়েছে শরীয়ত-

১) এতিম, ২) দরিদ্র/মিসকীন, ৩) খলিফার নির্ধারিত আমীর, ৪) ঋণগ্রস্থ ব্যক্তি, ৫) দাসত্ব নিরসনে, ৬) মুজাহিদ এবং ৭) মুসাফীর, যারা আল্লাহ্‌র রাস্তায় বের হয়েছে।

উল্লেখিত শ্রেণীর মধ্যে থেকে আমাদের দেশে এতিম এবং মিসকীনদের বিষয়টি অগ্রগণ্য হয়ে থাকে আমাদের দেশের কওমী মাদরাসাগুলো এতীম, মিসকীন ও অসহায়দের শিক্ষা অর্জন এবং দেখাশোনা, খাওয়া-দাওয়ার দায়িত্ব নিয়ে থাকে বিধায় কওমী মাদরাসাগুলোতে উল্লেখিত অর্থ প্রদানে দ্বিগুণ সওয়াবের আশা করা যায়।

Comments